image

image
 

A+ A-
Voice of 71 Voice of 71 Author
Title: মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিনঃ ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১
Author: Voice of 71
Rating 5 of 5 Des:
২৪ এপ্রিল, ১৯৭১ ভারতের হিলিতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পাকবাহিনী আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান ছেড়ে পি...
২৪ এপ্রিল, ১৯৭১
  • ভারতের হিলিতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পাকবাহিনী আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান ছেড়ে পিছিয়ে গিয়ে পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়।
  • পাকহানাদার বাহিনী সড়কপথে মাদারীপুর শহরে প্রবেশ করে। শহরে ঢুকেই কালবিলম্ব না করে স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় এম.পি আসমত আলী খান ও ফনীভূষণ মজুমদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বহু বাড়িসহ দোকানপাট লুট করে।
  • ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট, বাঙালিপুর, টিয়রপাড়া ও মধুপুরে ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি চলে। এ সমস্ত ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের ১ মাস ১৫ দিন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
  • পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাকিস্তানিরা বারবার ইপিআর বাহিনীকে তাদের হাতে সমর্পণ করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু ভারতীয বিএসএফ-এর মেজর ভেদী, ক্যাপ্টেন ঘোষ ইপিআর সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান।
  • রাঙামাটি থেকে মহালছড়ির থেকে আগত পাকবাহিনীর দুই কোম্পানি সৈন্যের সাথে ক্যাপ্টেন আফতাব কাদের ও লে. মাহফুজের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের কুতুবছড়ি নামক স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পাকবাহিনীর প্রচুর ক্ষতি হয়।
  • পাকবাহিনীর একদল সৈন্য চিংড়ি নদী দিয়ে নানিয়ারচর বাজার হয়ে মহালছড়ির দিকে অগ্রসর হয়।
  • মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে পুলিশ সুপার নূরুল মোমিন খান (মিহির) ফরিদপুর পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার খুলে দেন। ফরিদপুরে মুক্তিবাহিনীর জন্য এটাই প্রথম অস্ত্র লাভ।
  • ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে করেরহাট নামক স্থানে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা সাহসিকতার সাথে পাকসেনাদের প্রতিহত করেন।
  • বৃটিশ পার্লামেন্ট শ্রমিকদলের সদস্য উড্রো ওয়াট বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাপক হত্যার প্রতিবাদে আমরা সবাই এতো চুপচাপ কেন? পূর্ব পাকিস্তানে যেসব ঘটনা ঘটছে তা অত্যন্ত জঘন্য। হিটলার ও স্ট্যালিনের পর এ ধরনের হত্যাকান্ডের কথা আর কখনো শোনা যায়নি। আমরা এ বিষয়ে কি করছি? জেনারেল ইয়াহিয়াকে এখনও আমরা সাহায্য দিচ্ছি। সারাদেশ উজাড় করার বিষয়টি মোটেই ঘরোয়া ব্যাপার নয়।
  • ঢাকার মিরপুরে দেওয়ান ওয়ারেসাত হোসেন খানের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় মো. সামীউদ্দিন খানকে আহ্বায়ক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘শান্তি কমিটি’ গঠিত হয়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ‘কেন্দ্রীয় শান্তি’ কমিটির আবুল কাসেম, মাহমুদ আলী, আবদুল জব্বার খদ্দর, মেজর আফসারউদ্দিন প্রমুখ।
  • শান্তি কমিটির ১৮টি ইউনিট আহ্বায়কের নাম ঘোষনা করা হয়। আহ্বায়করা হচ্ছেন: 
  1. তেজগাঁও (পূর্ব) মো. ফজলুর রহমান, 
  2. ধানমন্ডি - এস.এম হাবিবুল হক, 
  3. নারায়ণগঞ্জ (শহর) - এএসআই সরদার,
  4. দিলখুশা - মো. মনসুর আলী, 
  5. জোয়ার সাহারা - আলী আহসান,
  6. শরাফতগঞ্জ - গিয়াসউদ্দিন আহমদ,
  7. খিলগাঁও - ড. আইয়ুব আলী, 
  8. নবীনগর (কুমিল্লা) - মৌলবী সেকেন্দার আলী, 
  9. জয়দেবপুর - আবদুল মজিদ সরকার, 
  10. জয়দেবপুর (থানা) - মো. মস্তান খান, 
  11. রেকাবীবাজার - ইদ্রিস বেপারী, 
  12. মোহাম্মদপুর - দেওয়ান ওয়ারেসাত আলী, 
  13. দিলু রোড - জিআন,
  14. নিউ ইস্কাটন - মজিবুর রহমান, 
  15. ধানমন্ডি (পূর্ব) - এম.এ খালেক, 
  16. মহাখালী - এ.কে.এম আবদুল্লাহ, 
  17. মিরপুর - মো. শফিউদ্দিন খান ও 
  18. শাজাহানপুর - এম.এ খালেক।
    • সরকারি এক হ্যান্ড আউটে ঢাকা শহরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলা হয়, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররমসহ সমস্ত জায়গায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কোথাও কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। প্রদেশের সর্বত্র সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যথারীতি কাজ চলছে। সব ব্যাপারেই জনগণসহায়তা করছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা থেকে দুষ্কৃতকারীদের উচ্ছেদ করে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করায় জনগণের মধ্যে পুরোমাত্রায় আস্থা ফিরে এসেছে।
    তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

    About Author

    Advertisement

    Post a Comment Blogger

     
    Top