image

image
 

A+ A-
Voice of 71 Voice of 71 Author
Title: মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিনঃ ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১
Author: Voice of 71
Rating 5 of 5 Des:
১৪ এপ্রিল, ১৯৭১ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত এক ভাষণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম...
১৪ এপ্রিল, ১৯৭১
  • বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত এক ভাষণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল সফরের জন্য বিশ্বের সকল বার্তাজীবী এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতি আমন্ত্রণ জানান। তিনি সকল বন্ধুরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা, যথা রেডক্রস ইথ্যাদির প্রতি সরাসরি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
  • ঢাকার মৌলভী ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে শান্তি কমিটির স্টিয়ারিং কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ধ্বংস করার শপথ ঘোষণা করে হানাদার ও সহযোগীরা।
  • সারাদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে পাকহানাদার বাহিনী বিমান আক্রমণ চালায়। পাশাপাশি আশুগঞ্জেও পাকবাহিনী বিমান আঘাত হানে। এই আক্রমণে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বহু নিরীহ মানুষ ও বাঙালি মুক্তিকামী সৈন্য মৃত্যুবরণ করে।
  • পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি বিগ্রেড কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হয়। পাকবাহিনী উজানিসার ব্রিজের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের কাছাকাছি এলে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক আক্রমণ চালায়। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর একজন অফিসারসহ ১৭৩ জন সৈন্য নিহত হয়।
  • সারাদিন মধুপুর গড়ে মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনীর মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত পাকসৈন্যরা প্রাণ বাঁচাতে পিছু হটে কালিহাতি ও ঘাটাইল অঞ্চলে অবস্থান নেয়।
  • প্রথম রেজিমেন্ট চৌগাছা থেকে হেড কোয়ার্টার তিুলে নিয়ে বেনাপোলের ৩ মাইলপূর্বে কাগজপুকুর গ্রামে স্থাপন করে এবং যশোর বেনাপোল রাস্তার দুধারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
  • দিনাজপুরের খানসামা এলাকায় অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নীলফামারী থেকে আগত পাকবাহিনী আক্রমণ চালায়। পাকসেনাদের হঠাৎ আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা বিচ্ছিন্নভাবে পিছু হটে।
  • ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ পাকসেনারা আক্রমণ করে এবং আগুনে বোমার সাহায্যে পঞ্চগড় শহরকে সম্পূর্ণরূপে জ্বালিয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা শহর ছেড়ে অমরখানায় ডিফেন্স নেয়।
  • সকাল ৯টায় পাকবাহিনী কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জ এসে জেলখানার উত্তরে অবস্থান গ্রহণ করে। পাকসেনারা জেল অফিসে কর্মরত হেড ক্লার্ক ও সিপাইসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করে।
  • রাজশাহী শহরের লক্ষীপুর গার্লস স্কুলের সামনে পাকসৈন্যরা মোশারফ হোসেন সন্টুসহ ৩০ জনকে সমবেত করে। এদের মধ্য থেকে মঈনউদ্দিন আহমদ মানিক, আশরাফ হোসেন রতন ও মাসুদ রানা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে পালায়। বাকী সবাইকে পাকহানাদাররা গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে মোশারফ হোসেন সন্টু লাশের নীচে চাপা পড়ে আহত অবস্থায় বেঁচে যান।
  • পাকবাহিনী সান্তাহার পৌঁছালে বিহারীরা হানাদারদের সাথে মিলিত হয়ে আশেপাশের গ্রামগুলো ঘেরাও করে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অগনিত মানুষকে হত্যা করে। এ হত্যাযজ্ঞ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ‘সান্তাহার গণহত্যা’ নামে পরিচিত।
  • পাকবাহিনীর দুটি কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধাদের রাজারহাট ও কুলারহাট অবস্থানের উপর ব্যাপক আক্রমণ চালায়। এ সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধারা স্থান দুটি ছেড়ে দিয়ে পিছু হটে।
  • রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এলাকাতে ক্যাপ্টেন আফতাব কাদেরের নেতৃত্বে একটি কোম্পানি, বুড়িঘাট ও রাঙ্গামাটির মধ্যস্থলে একটি কোম্পানি নিয়ে ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান, রাঙ্গামাটি ও বরফকলের মধ্যস্থলে লে. মাহফুজ একটি কোম্পানি নিয়ে এবং কুতুবছড়ি এলাকাতে সুবেদার মুতালেব একটি কোম্পানি নিয়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেয়।
  • মুক্তিবাহিনী প্রচন্ড যুদ্ধের পর কুমিল্লার কসবা পাকিস্তান সেনাদের কাছ থেকে পুনর্দখল করে নেয়।
  • মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনীর মধ্যে পাকশী সেতুর কাছে তীব্র সংঘর্ষ হয়।
  • নিউয়র্ক টাইমসের ভাষ্য: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার মতো শহরে এখন সম্ভবত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লোক রয়েছে। সম্পূর্ণভাবে পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিয়ে সেনাদলের সামরিক আক্রমণে যারা বেঁচে গেছেন তারা প্রায় সবাই প্রতিরোধকারীদের দলে যোগ দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

About Author

Advertisement

Post a Comment Blogger

 
Top